যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা বাড়তি শুল্ক এড়াতে সতর্কতা অবলম্বন করছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনের সদস্যদের এক চিঠির মাধ্যমে ৯ এপ্রিলের মধ্যেই রফতানি পণ্য জাহাজে তোলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে গত সোমবার বিজিএমইএর মহাসচিব মো. ফয়জুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঘাটতি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী পাল্টা আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে, যা ৯ এপ্রিল (আজ) কার্যকর হবে। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার, বিজিএমইএ ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এমতাবস্থায় যেসব সদস্য প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রগামী রফতানি পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর বা আইসিডিতে কনটেইনারে বোঝাইকৃত রয়েছে তাদেরকে জরুরি ভিত্তিতে ৯ এপ্রিলের মধ্যে জাহাজীকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
বিজিএমইএর প্রশাসক আনোয়ার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আমরা গত ৭ এপ্রিল এ বিষয়ে সদস্যদের চিঠি দেই। কারণ ৯ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন শুল্কনীতি কার্যকর করবে। তার আগে যদি পণ্য জাহাজে তোলা হয়, তাহলে সেই পণ্যে নতুন শুল্কহার প্রযোজ্য হবে না। তাই রফতানিকারকরা যাতে এর আগেই পণ্য জাহাজীকরণ করেন, সে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে একটি বিশেষ সেলও খোলা হয়েছে।’
এদিকে, মার্কিন ক্রেতাদের বড় একটি অংশ ক্রয়াদেশ স্থগিতের অনুরোধ করেছেন। ই-মেইল বার্তায় একজন রফতানিকারককে যুক্তরাষ্ট্রের এক ক্রেতা বলেন, ‘আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের প্রভাব মূল্যায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অনুগ্রহ করে কোনো নতুন উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা থেকে বিরত থাকুন।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশের পোশাক রফতানিকারক ও কারখানা মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন ক্রেতারা। রফতানিকারক কারখানা কর্তৃপক্ষও মার্কিন ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শুল্কের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করছেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতাদের পক্ষ থেকেই রফতানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে যেসব পণ্য এরই মধ্যে রফতানির জন্য প্রস্তুত হয়েছে, সেসব পণ্য যেন বাড়তি শুল্কের আওতায় না পড়ে তার জন্য দ্রুত রফতানির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ২ হাজার ৩২৬টি প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানি করেছে। এর মধ্যে এক-চতুর্থাংশের বেশি রফতানি করেছে ৯৫৭টি প্রতিষ্ঠান, যাদের অধিকাংশই তৈরি পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট।
পণ্য দ্রুত জাহাজে তোলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য বিজিএমইএ চিঠি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা), বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফা), বাংলাদেশ কনটেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএসএ) এবং বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনকে অনুরোধ জানিয়েছে।